Posted by : আয় করি অনলাইনে দক্ষ হয়ে Sunday, March 1, 2015

হাকালুকি হাওর
হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর। বর্ষাকালে বিস্তৃত জলরাশিতে এ হাওরের রূপ দেখে মনে হয় যেন ভাসমান সাগর। এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুরী, কুলাউড়া এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় এর বিস্তৃতি। হাওরের আয়তন প্রায় ১৮,১১৫ হেক্টর। উল্লেখ্য হাওর শব্দটি সংস্কৃত শব্দ ‘সাগর’এর বিকৃত রূপ বলে ধারণা করা হয়। অর্থাৎ হাওরের উৎপত্তি হয়েছে এভাবে-সাগর>সাওর>হাওর।
হাকালুকি হাওর
জলের মাঝে মাঝে দুই-একটি বর্ষীয়ান হিজল, তমাল বৃক্ষ। অথচ শীতকালে বিস্তৃত এই হাওর ধু-ধু সবুজপ্রান্তর, কোথাও বা ধান ক্ষেত এবং খানাখন্দ নিচু ভূমিতে প্রায় ২৩৬টি বিলের সমষ্টি। হাকালুকি হাওর মাছের জন্য প্রসিদ্ধ। বাংলাদেশের সংরক্ষিত জলাভূমি এই হাওর । শীত মৌসুমে এশিয়ার উত্তরাংশের সাইবেরিয়া থেকে প্রায় ২৫ প্রজাতির হাঁস এবং জলচর নানা অতিথি পাখি এখানে আসে। এছাড়া স্থানীয় প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি সারাবছর এখানে দেখা মেলে।
হাকালুকি হাওর
ধু-ধু প্রান্তরের এই চারণভূমি ও বিলগুলো মানুষের জীবন-জীবিকা এবং অতিথি পাখির কলকাকলি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটককে দুর্বার আকর্ষণে রোমাঞ্চের হাতছানি দেয়। হাকালুকি হাওরে অনেক প্রজাতির মাছও পাওয়া যায়।  জলজ উদ্ভিদের মধ্যে বিলুপ্ত প্রায় মাকনা হাওর অঞ্চলের পুটি, হিঙ্গাজুর, হাওয়া প্রভৃতি বিলে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান। এ হাওর সংরক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি বিল সাধারণত ৩ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে মৎস সম্পদ আহরণের জন্য পানি সেচে ফেলার কারণে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ দারুণভাবে বিপন্ন হয়ে পড়ছে। পালাক্রমে বিলগুলোতে মাছ ধরা হয়। যেসব বিলে মাছ ধরা হয় না সেসব বিল পাখি ও জলজ উদ্ভিদের জন্য মনোরম আবাসস্থলে পরিণত হয়।
কিভাবে  যাবেনঃ
ঢাকা থেকে ট্রেনে অথবা বাসে কুলাউড়া শহর। সেখান থেকে রিকশা যোগে পছন্দমতো বিলের নিকটমতো গ্রাম অতঃপর ট্রেকিং।
কোথায় থাকবেনঃ
বিল মালিকের অনুমতি নিয়ে আপনি হাওর এলাকায় বিল ইজারাদারদের দোচালা কুটিরগুলোয় থাকতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় বিল এলাকায় তাঁবু ফেলে রাত্রি যাপন। জোছনা রাতে তাঁবুতে যাপন, পাখি পর্যবেক্ষণ যে কোনও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটককে বিমোহিত করবে।
কেমন খরচ হবেঃ
ঢাকা থেকে কুলাউড়া ট্রেন ভ্রমণে খরচ শ্রেণীভেদে ১৩০ থেকে ৪৫০ টাকা। এসি বাসে ভাড়া যথাক্রমে ৩৫০ টাকা এবং ৩০০ টাকা। কুলাউড়া শহর থেকে অটোরিকশা ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং রিকশা ভাড়া ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
হাকালুকি হাওর ভ্রমণের সেরা সময়ঃ 
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় হাওর ভ্রমণের জন্য সেরা। এসময় এখানে প্রচুর পরিমানে অতিথি পাখির কলকাকলিতে চারদিক মুখর থাকে। জলজ উদ্ভিদ, মাছপ্রেমীদের জন্য এটা সেরা মৌসুম।
সঙ্গে যা নিতে হবেঃ
ভালো বড় ব্যাগ, তাঁবু, ম্যাট, এয়ার পিলো, রেইন কোট, শীতের উপযোগী জ্যাকেট, গামছা, কাদা-পানিতে চলন উপযোগী রাবারের নাগরা জুতা, পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য বাইনোকুলার, ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যাটারি, মেমরিকার্ড, শুকনো খাবার, চা, চিনি দুই-একদিনের জন্য রেশন, প্রাথমিক ওষুধ-চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদি।
খাওয়া দাওয়াঃ
সঙ্গে আনা চাল-জলের রেশন হাওর এলাকার শ্রমজীবী মানুষকে সামান্য কিছু টাকা দিলে পছন্দ মতো টাটকা মাছের ঝোলের তরকারি দিয়ে তা পরিবেশন করবে অথবা ওদের সঙ্গেও সুস্বাদু খাবার শেয়ার করা যাবে অনায়াসে। এখানকার বাথানে গরু-মহিষের দুধও খুব সস্তায় পাওয়া যায়। সঙ্গে হালকা চা, নাশতা, বিস্কুট, পাউরুটি নিলে খুব ভালো হয়।

সুএ  <> বিডিনিউজডেস্ক

Leave a Reply

Subscribe to Posts | Subscribe to Comments

- Copyright © পর্যটন হোক উন্নতির হাতিয়ার - Skyblue - Powered by Blogger - Designed by Johanes Djogan -